নিজস্ব প্রতিবেদক
কওমি মহিলা মাদ্রাসা নিয়ে বহু আলোচনা সমালোচনা রয়েছে,, তবে এসব ব্যাপারে সাহস করে লিখার মতো খুব কম সংখক মানুষকেই দেখা যায়, সমাজের সচেতন শ্রেনির মানুষের কাতারে থেকে এবার মুখ খুললেন, বিশিষ্ট অনলাইন এক্টিভিষ্ট ও মিডিয়া ব্যাক্তিত্ব হাসিব আর রহমান তিনি তার ভেরিফাইড ফেইসবুক পোস্টে যা লিখেছেন তা নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো।

বাংলাদেশের কওমি আলেমদের লাস্ট পাপ হলো এদেশের মহিলা মাদ্রাসা! এখানে পাপ ভুল অর্থে বলতেসি। সারাদেশে একদম হাতেগোনা কয়েকটা মহিলা মাদ্রাসা বাদ দিলে এদেশের কওমি মহিলা মাদ্রাসা এক একটা ভয়ংকর জায়গা। এখানের পাপের পরিধী অনেক বেশি লম্বা। এই আবাসিক মহিলা মাদ্রাসাগুলোতে বেশিরভাগই মেয়েদের দৈহিক, মানসিক নিরাপত্তা নাই বললেই চলে। পরিবেশের বিশ্রিপনা তো বলার কিছু নাই! বরং একটু সাহস নিয়ে বললে আরও অনেক কথাই বলা যায়। কিন্তু সমস্যা হলো, থু থু উপরের দিকে ফেললে নিজের মুখেই পড়ে!
এমনিতেই তো ধরেন এদেশে একটা প্রাইভেট মাদ্রাসা খুলতে কিছুই লাগে না। কোনো নিয়ম নাই, সার্টিফিকেট বা অনুমোদন; কিছুই নাই, যোগ্যতার কোনো ইস্যু নাই, মন চাইলো দুইটা রুম ভাড়া নিয়ে একটা মাদ্রাসা খুলে নিলেই হয়! চালাক চতুর হলে তিন চার বছরে সেই মাদ্রাসা মাসে ৫/৬ লাখ টাকা প্রফিটেবল করাও সম্ভব আলহামদুলিল্লাহ।
পুরুষ মাদ্রাসা নিয়ে এইটা হইতে পারে, হউক। কিন্তু মহিলা মাদ্রাসা বিষয়ে সেইম নিয়ম ভয়ংকর, বিশ্রি! ঢাকার রুম রুম মহিলা মাদ্রাসা বা গ্রাম উপশহরে বাড়ি বাড়ি মহিলা মাদ্রাসার এই সিস্টেম কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না।
পড়ালেখা নিয়ম-কানুন এগুলো পরের কথা; এমন মহিলা মাদ্রাসায় নারীদের ইজ্জত রক্ষার জন্যই এটা গ্রহণযোগ্য না। কোনো মহিলা মাদ্রাসায় নুনুওয়ালা পুরুষের মেইনটেইনেন্সগত কোনো সংযোগ আছেই মানেই তাকে সন্দেহ করতে পারেন আপনি।
কারণ, গায়ে একটা জুব্বা, মাথায় টুপি, মুখে দাঁড়ি মানেই কেউ ফেরেশতা হয়ে যায়নি। তার নিচের, উপরের, ভেতরের, বাইরের সব জ্বালাই আছে! সুযোগে সে ধর্ষক, নিপীড়ক, যৌণ হেনস্তাকারী হয়ে উঠা একদম স্বাভাবিক, সিম্পল বিষয়! মহিলা মাদ্রাসায় যেটা অহরহ হচ্ছে। এজন্য নিয়ম ও নিয়মের প্রয়োগের বেড়াজাল প্রয়োজন।
গত দেড় দুই বছর আমার এসব নিয়ে তেমন মাথাব্যাথা নেই কিন্তু আমি এই জগত সম্পর্কে বিস্তর জ্ঞানার্জন করেছি। অনেকভাবেই করেছি। এখানেও বেশি কথা বললাম না!
হুজুর প্রজাতীর একটা গ্রুপ এই লেখাটা লিখলেই শিং নিয়ে তেড়েফুঁড়ে আসে আর বলে, স্কুল কলেজ দেখেন না; খালি মহিলা মাদ্রাসা দেখেন? এইটা যদি কারো যুক্তির লেভেল হয় তাহলে ওকে! আপনার মতো গাছবলদরে কিছু বলার প্রয়োজন নাই আমার। একটা ইসলামী দলকে দেখবেন তাদের পাপের কথা কইলেই বলবে, বিএনপিরে তো কিছু বলেন না! আপনিও তাদের মতই বট আর আহাম্মক! বাকি একটা কথা আরও বলি,
স্কুল কলেজ ভার্সিটির মেয়েদের মানসিক নিরাপত্তা মজবুত! এজন্য তারা কথা বলতে পারে। তাদের সাহস আছে। এ ধরণের ঘটনায় বেশিরভাগই তারা কথা বলেও কিন্তু মহিলা মাদ্রাসার মেয়েদের ওইটাও নাই। মহিলা মাদ্রাসার মেয়েরা নিপীড়নের শিকার হলে সেটা বোরকার নিচেই আড়াল করে রাখে। তারা মনে করে এটা বলা সঠিক না। বললে নিজেরই ক্ষতি হবে। আর 'হুজুরের নামে ক্যামনে বলে' এই ধারণাও পয়দা হয় এদের মধ্যে। এইটার কেসস্ট্যাডি আমার কাছে ছিলো। আমি ওই মেয়েকে রাজিই করাইতে পারিনি মামলা করাইতে!
এসব আলাপে অনেকে বলে, ফেসবুকে কেন বলেন? অথরিটিকে বলেন না কেন? তারা হয়ত জানেই না এদেশের কওমি মাদ্রাসার কোনো অথরিটি নাই! উই হ্যাভ নো অথরিটি!
এগুলো বরং পাবলিক আলাপ হওয়া উচিত। মিডিয়া এদেশের কওমি মহিলা মাদ্রাসাগুলোর অব্যবস্থাপনা নিয়ে টানা নিউজ হওয়া উচিত। নিউজ আসা উচিত বালিকাদের দৈহিক ও মানসিক নিরাপত্তার বিষয় নিয়েও। এমনকি কওমি মহিলা মাদ্রাসায় বালিকাদের ইজ্জত-আব্রুর হেফাজতের বিষয় নিয়েও স্পষ্ট আলাপ আসা উচিত। তাদের ইজ্জতের নিরাপত্তা কি সেটা পরিস্কার থাকা উচিত।
নিজের কথা বলি শুনেন, দুই তিনটা মহিলা মাদ্রাসা আমি চিনি! ওইগুলোতে না পারলে আমি আমার মেয়েকে অবশ্যই ৭ বছরের পরে প্রচলিত সিস্টেমের কোনো মহিলা মাদ্রাসায় পড়াবো না।